ত্বকের রোগ ও চিকিতসা : ( পার্ট -১)
ত্বক পরিচিতি:
মানুষের শরীরের বাহ্যিক আবরণের নাম ত্বক। এটা মানবদেহের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইন্দ্রিয়। এটা শরীরের সকল মাংসপেশী, হাড়, লিগামেন্ট এবং অভ্যন্তরীণ ইন্দ্রিয়সমূহকে রক্ষা করে। ল্যাটিন কিউটিস - ত্বক শব্দ থেকে কিউটেনিয়াস শব্দের উতপত্তি। কিউটেনিয়াস অর্থ ত্বক।
ত্বকের কাজ:
১. প্রোটেকশান (রক্ষা):
ত্বক বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন জীনাণু বা সংক্রমনের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
২. সেনসেশন (অনুভূতি):
ত্বকের বিভিন্ন প্রকার স্নায়ু সংযোগ থাকায় এটা গরম, ঠান্ডা, চাপ, কম্পন এবং পেশীর আঘাতের অনুভূতি টের পায়।
৩. হিট রেগুলেশন (তাপ নিয়ন্ত্রণ):
ত্বকে যে রক্ত প্রবাহ আছে তার মাধ্যমে আমরা শক্তির ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারি রেডিয়েশন, কনভেকশন এবং কনডাকশনের মাধ্যমে।
৪. কন্ট্রোল অব ইভাপোরেশান (বাষ্পীভবন নিয়ন্ত্রণ):
ত্বক আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং শুষ্কতা মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
৫. স্টোরেজ এন্ড সিনথেসিস (সঞ্চয় ও সংশেষণ): ত্বক লিপিড ও পানি সঞ্চয়ের আধার হিসেবে কাজ করে।
৬. অ্যাবজরবশন (শোষণ) :এপিডারমিসের মাধ্যমে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং কার্বনডাইঅক্সাইড সামান্য পরিমানে বিকীর্ণ বা শোষিত হয়। কিছু কিছু প্রাণী তাদের ত্বকের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস চালায় যেমন- সাপ।
৭. ওয়ারটার রেজিসটেন্স (পানি প্রতিরোধী):
ত্বক পানি প্রতিরোধী হিসেবে কাজ করে যার ফলে প্রয়োজনীয় পুষ্ঠি উপাদান পানির সাথে বের হয়ে যেতে পারে না।
ত্বকের বিভিন্ন স্তর :মানুষের ত্বক প্রাথমিকভাবে তিনটি স্তরে বিভক্ত-
১. এপি ডার্মিস : যা পানি নিরোধক এবং সংক্রমণ প্রতিবন্ধক।
২. ডার্মিস : যা ত্বকের উপাঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত।
৩. হাইপোডার্মিস: এটা সাব কিউটোনিয়াস এডিপোস লেয়ার হিসেবে পরিচিত।